ঘোষনা
Teem24.com আপনার সব সময়ের সঙ্গী...

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতীয় দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদদীন আহমেদ বরগুনায়

মীর জামাল
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০২২
  • ১১৬ বার পঠিত

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদদীন আহমেদ। বরগুনার ইতিহাসে একটি গৌরবদীপ্ত নাম।

সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ১৯৪১ সালের অক্টোবর মাসে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের আরজিকালিকাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জাহান উদ্দিন ফকির এবং মাতা লাইলী বেগম।

তিনি বরিশাল বিএম কলেজে উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতক শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

পাশাপাশি জনপ্রশাসন, অর্থনীতি এবং আইন শাস্ত্রে দেশ-বিদেশের অনেক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ লাভ করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে অসম সাহসী তরুণ সিরাজ উদদীন ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বরগুনা জেলা সংগ্রাম পরিষদের মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।

২৩ শে মার্চ ১৯৭১ সালে তৎকালীন এমএনএ আসমত আলী সিকদারকে সঙ্গে নিয়ে বরগুনা জেলায় প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। বর্ণাঢ্য কর্ম জীবনের অধিকারী এই গুনী মানুষ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন বরগুনা মহকুমার এসডিওর দায়িত্ব পালন করেন।

সরকারের উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব, ভারপ্রাপ্ত সচিব, দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ব্যুরোর মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ, বাংলাদেশ পার্বিক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে তাড়িত হয়েছেন জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার দুসংবাদ পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে বলেন this is the end of my life. তারপর নিজের রিভলবারসহ এসডিপিও কে সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন সমগ্র মহকুমায় সামরিক আইন জারি না করার নির্দেশ দেন।

১৯৯৬ সালে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সাথে জনতার মঞ্চে যোগ দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার শিকার হন। সিরাজ উদদীন আহমেদ একই সাথে একজন ঐতিহাসিক, অর্থনীতিবিদ, প্রশাসক এবং লেখক হিসেবে বিগত ৫০বছর ধরে সমাজ ও মানব উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে সরকারের কোন কর্মকর্তা হিসেবে তিনিই প্রথম কলম ধরেন।

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বরগুনা ও বরিশালের ইতিহাস, জাতির পিতার জীবন ও কর্মসহ সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও ইতিহাস বিষয়ে তিনি চব্বিশটি গ্রন্থ রচনা করেন।

জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ১৯৯৬ ও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০০৬ প্রণয়ন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সিনেট সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্যসহ রাষ্ট্রের নানান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জীবনের প্রতিটি পরতে সম্পৃক্ত থেকে জ্ঞানের দ্যুতি বিলিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তর। তার স্ত্রী এবং লেখক জীবনের শ্রেষ্ঠ সারথি অধ্যাপিকা বেগম ফিরোজা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান এবং এনসিটিবির সাবেক পরিচালক হিসেবে সম্মানের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৩ সালে ফিরোজা বেগম পরলোক গমণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক। তার জ্যেষ্ঠপুত্র জনাব শাহরিয়ার আহমেদ একজন প্রকৌশলী এবং পুত্রবধু নুসরাত জাহান নিমু একজন গৃহিণী। কণিষ্ঠ পুত্র শাকিল আহমেদ ভাস্কর এবং পুত্রবধু জনাব ফারজানা ইয়াসমিন শিমু উভয়েই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২২ এ ভূষিত করতে বরগুনা জেলার বর্তমান জেলা প্রশাসক জনাব হাবিবুর রহমান উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরই মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদদীন আহমেদকে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২২ এ ভূষিত করে।

সিরাজ উদদীন আহমেদ আইনশৃংখলা রক্ষা, উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ড এবং জনসেবার মধ্য দিয়ে বরগুনাবাসীর হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে আছেন। তারই স্বীকৃতি হিসেবে জেলা সদরের প্রধান সড়কের নামকরণ করা হয় সিরাজ উদদীন সড়ক এবং পৌর টাউন হলের নামকরণ করা হয় সিরাজ উদদীন মিলনায়তন।

আজ মুজিববর্ষে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবস উদযাপনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব জনাব সিরাজ উদদীন আহমেদের উপস্থিতে বরগুনাবাসী গর্বিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Cyber Planet BD